ছুটি মানেই যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি আর প্রিয়জনদের সাথে নতুন কোনো জায়গায় ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু ভ্রমণের আনন্দ অনেক সময় ফিকে হয়ে যায় যদি মাথার ভেতর ঘরের নিরাপত্তার চিন্তা ঘুরপাক খায়। দীর্ঘ সময়ের জন্য বাসা খালি রেখে যাওয়ার আগে কিছু কৌশলগত প্রস্তুতি নিলে আপনি নিশ্চিন্তে ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।
নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো যা বাসা বন্ধ করার আগে আপনার অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত:
১. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি: দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ান
বাসার প্রধান ইউটিলিটি সংযোগগুলো পরীক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি কাজ।
গ্যাস: রান্নার চুলার নব এবং প্রধান গ্যাস লাইন (সিলিন্ডার হলে রেগুলেটর) অবশ্যই বন্ধ করুন।
বিদ্যুৎ: ফ্রিজ ছাড়া বাকি সব বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করে প্লাগগুলো সকেট থেকে খুলে রাখুন। বজ্রপাত বা ভোল্টেজ ওঠা-নামা করলে এতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নিরাপদ থাকে।
পানি: বাথরুম বা রান্নাঘরের কোনো ট্যাপ দিয়ে পানি পড়ছে কি না দেখে নিন। পানির মেইন ভালভটি বন্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
২. ডাস্টবিন ও পচনশীল খাবার
ফিরে এসে দুর্গন্ধমুক্ত ঘর পেতে চাইলে এই ধাপটি মিস করবেন না।
ঘরের সব ডাস্টবিন পরিষ্কার করে যান।
ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস বা পচনশীল ফলমূল খেয়ে ফেলুন অথবা কাউকে দিয়ে দিন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের খাবার পচে ঘরের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।
৩. পোকামাকড় ও ড্রেনেজ সিস্টেম
বন্ধ বাসায় পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে।
বেসিন, কমোড এবং ড্রেনের মুখে ঢাকনা দিয়ে রাখুন।
ড্রেনগুলোতে ফিনাইল বা নেফথলিন বল ব্যবহার করতে পারেন, এতে তেলাপোকা বা পোকামাকড় আসা বন্ধ হবে।
৪. ইনডোর প্ল্যান্টের যত্ন
আপনার অনুপস্থিতিতে শখের গাছগুলো যেন শুকিয়ে না যায়, সেজন্য সেলফ-ওয়াটারিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে গাছগুলো এমন স্থানে রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায় এবং বিশ্বস্ত কাউকে মাঝে মাঝে পানি দেওয়ার অনুরোধ করুন।
৫. কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
উন্নত তালা: দরজায় সাধারণ তালার পাশাপাশি ভালো মানের ইন্টারলক বা অতিরিক্ত শক্তিশালী তালা ব্যবহার করুন।
জানালা ও বারান্দা: প্রতিটি জানালার ছিটকিনি এবং বারান্দার গ্রিল ঠিকমতো লাগানো আছে কি না বারবার পরীক্ষা করুন।
চাবি গোপন রাখুন: চাবি কখনোই পাপোশের নিচে বা দরজার পাশের কোনো পরিচিত লুকানো জায়গায় রাখবেন না।
৬. প্রযুক্তি ও প্রতিবেশীর সহায়তা
স্মার্ট সিকিউরিটি: যদি সম্ভব হয় সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখুন এবং আপনার স্মার্টফোনের সাথে কানেক্ট করে নিন।
বিশ্বস্ত প্রতিবেশী: আপনার বিশ্বস্ত কোনো প্রতিবেশীকে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে যান। কোনো জরুরি প্রয়োজনে তারা যেন আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
উপসংহার:
একটু সতর্কতা আর সঠিক পরিকল্পনা আপনার ঘরকে রাখতে পারে সুরক্ষিত। যাওয়ার আগে একটি ছোট ‘টু-ডু লিস্ট’ করে সব চেক করে নিলে দুশ্চিন্তার কোনো অবকাশই থাকবে না।

