পিক টাইমে কলাতলী বা সুগন্ধা বিচের একদম কাছে হোটেল না খুঁজে একটু ভেতরের দিকে বা ভিন্ন এলাকায় খোঁজ করলে আপনার খরচ প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে।

১. মেইন রোড ও বড় বাজার এলাকা (শহরের কেন্দ্র)

লাবণী পয়েন্ট থেকে একটু ভেতরে হেঁটে বা টমটমে করে মেইন রোড বা বড় বাজার এলাকায় চলে যান। এখানকার হোটেলগুলো সাধারণত পর্যটকদের চেয়ে ব্যবসায়ীদের জন্য বেশি পরিচিত।

  • কেন যাবেন: বিচের পাশের হোটেলের চেয়ে এখানে ভাড়া ৫০-৬০% কম।
  • এলাকা: বার্মিজ মার্কেট এলাকা, ঘোনাপাড়া বা বড় বাজার।
  • খরচ: পিক সিজনে যেখানে বিচের পাশে ৩-৪ হাজার টাকা লাগে, এখানে ১০০০-১৫০০ টাকায় ভালো রুম পাওয়া সম্ভব।

২. লাইটহাউস পাড়া (Lighthouse Area)

কলাতলী মোড় থেকে একটু বাম দিকে পাহাড়ি রাস্তার দিকে গেলেই লাইটহাউস পাড়া। এখানে প্রচুর ছোট ছোট কটেজ এবং গেস্ট হাউজ আছে।

  • কেন যাবেন: এটি বিচের বেশ কাছে (১০-১৫ মিনিট হাঁটা পথ), কিন্তু একদম মূল পয়েন্টে না হওয়ায় ভিড় ও দাম দুটোই কম থাকে।
  • টিপস: সরাসরি গিয়ে দরদাম করুন, অনলাইনে এখানকার অনেক ছোট কটেজ পাওয়া যায় না।

৩. সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জিলংজা এলাকা

কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভের দিকে যাওয়ার পথে বাঁদিকের গলিগুলোতে (বিশেষ করে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পেছনে) অনেক নতুন অ্যাপার্টমেন্ট এবং গেস্ট হাউজ গড়ে উঠেছে।

  • কেন যাবেন: নিরিবিলি পরিবেশ এবং ঘরোয়া আবহে থাকা যায়। অনেকে পুরো ফ্ল্যাট বা রুম ভাড়া দেন যা বড় গ্রুপের জন্য সাশ্রয়ী।

৪. দরিয়া নগর বা ইনানী সংলগ্ন এলাকা

যদি শহর থেকে একটু দূরে থাকতে আপত্তি না থাকে, তবে দরিয়া নগর বা হিমছড়ি পার হয়ে ছোট ছোট রিসোর্ট দেখতে পারেন।

  • কেন যাবেন: এখানকার পরিবেশ যেমন সুন্দর, তেমনি বিকেলের পর ভিড় কমে যাওয়ায় সাশ্রয়ী রেটে রুম পাওয়া যায়। তবে যাতায়াতের জন্য টমটম বা ইজিবাইক ভাড়া একটু গুনতে হতে পারে।

কিছু প্রয়োজনীয় প্রো-টিপস:

  • ভোরবেলা চেক-ইন করুন: রাত ১০টার পর বা মাঝরাতে হোটেল খুঁজলে দাম বেশি চাইবে। চেষ্টা করুন সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে হোটেলে গিয়ে দরদাম করতে, কারণ ওই সময় অনেক রুম খালি হয় (Check-out time)।
  • টমটম চালকদের পরামর্শ নিন: মাঝেমধ্যে স্থানীয় টমটম চালকরা অনেক সাশ্রয়ী হোটেলের খোঁজ জানেন। তবে সরাসরি যাওয়ার আগে ভাড়ার ব্যাপারে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • দরদাম মাস্ট: কক্সবাজারে হোটেলের কোনো ফিক্সড রেট নেই (বড় রিসোর্ট বাদে)। ১০০০ টাকার রুম ৩০০০ টাকা চাইতে পারে, তাই আত্মবিশ্বাসের সাথে দরদাম করুন।
  • একাধিক জন মিলে থাকুন: একটি ট্রিপল বেড বা চার বিছানার রুমে গ্রুপ করে থাকলে মাথাপিছু খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে আসে।

সারকথা: কক্সবাজারে পিক সিজনে সস্তায় থাকতে হলে বিচের মোহ ত্যাগ করে একটু শহরের ভেতরের দিকে তাকাতে হবে। ৫-১০ মিনিট টমটমে চড়ে বিচে আসা কষ্টকর নয়, যদি আপনার পকেটের টাকা বাঁচে!

আপনার ভ্রমণ আনন্দদায়ক হোক!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart
Share via
Copy link